
দায়িত্ব ছাড়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই শতাধিক লিখিত অভিযোগ কমিশনের কার্যালয়ে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
দুদকের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, অভিযোগের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং প্রাথমিক যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অধিকাংশ অভিযোগ নাম-পরিচয়বিহীন হলেও কিছু অভিযোগকারী নিজেদের পরিচয় ও প্রমাণ সংযুক্ত করে লিখিত আবেদন করেছেন। দুদক সূত্র বলছে, অন্যান্য অভিযোগের মতোই এসব অভিযোগও নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় যাচাই করা হবে।
প্রক্রিয়ায় যাচাই করা হবে।
এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কেউ যেন ভিত্তিহীন অভিযোগে হয়রানির শিকার না হন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।”
প্রধান উপদেষ্টার বিরুদ্ধে অভিযোগ
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি একটি ব্যক্তিগত ট্রাস্ট গঠন করে গ্রামীণ কল্যাণ ও গ্রামীণ টেলিকম-এর অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম করেছেন। কিছু অভিযোগে আয়কর ফাঁকি ও অর্থ বিদেশে পাচারের দাবিও তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আইন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ
সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মামলা ও জামিন বাণিজ্য এবং পদায়নে অনিয়মের একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিচারক বদলি ও সাব-রেজিস্ট্রার পদায়নে আর্থিক লেনদেন হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো যাচাই হয়নি।
অন্যান্য উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ
পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান-এর বিরুদ্ধে প্রকল্পে অনিয়ম ও সম্পদ-সংক্রান্ত অভিযোগ উঠেছে।
সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান-এর বিরুদ্ধে বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানির সঙ্গে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ জমা পড়েছে।
সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ পাচারের অভিযোগ এসেছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।
এ ছাড়া তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বিরুদ্ধে সম্প্রচার লাইসেন্স প্রদানে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ করা হয়েছে।
দুদক বলছে, অভিযোগগুলোর প্রাথমিক যাচাই শেষে যেগুলো আমলযোগ্য হবে সেগুলো আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধানের আওতায় আনা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর ভিত্তিহীন প্রমাণিত হলে তা খারিজ করা হবে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।